রামাদানের পর কীভাবে আল্লাহ্‌র আনুগত্যে অটল থাকা যায়

[মূল লেখক: আহমাদ ‘আবদুল-মাজীদ মাক্কী। মৌলিক লেখাটি এখানে পাবেন]

অনেকেই খেয়াল করেছেন যে বহু মুসলিম রামাদানের সময় বিভিন্ন ‘ইবাদাতের কাজে মশগুল থাকেন। এসবের মধ্যে রয়েছে আল্লাহ্‌কে স্মরণ করা, দান করা, ওয়াক্ত হয়ে গেলেই তাড়াতাড়ি নামাজ পড়া ইত্যাদি। কিন্তু এরাই আবার রামাদান শেষ হয়ে গেলে গড়িমসি করা শুরু করেন এবং এই ‘ইবাদাতের কাজগুলো ধরে রাখতে পারেন না। এই ঘটনা যদি চলতেই থাকে তাহলে একজন বান্দার ঈমানে ও তার মৃত্যু ও আখিরাতের জীবনে এটি বড় ধরণের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। Continue reading

Advertisements

সংস্কারমূলক কাজে ধৈর্য অবলম্বন না করার ফিতনা

chained[লেখাটি আসলে একটি খুতবা যা আমি শুনে শুনে অনুবাদ করেছি। পাঠোপযোগী করার জন্য অর্থের দিকে খেয়াল রেখে অল্পবিস্তর পরিবর্তন করা হয়েছে। খুতবাটি দিয়েছিলেন শায়খ সুলতান বিন হামাদ আল-‘উওয়াইদ (রঃ), তিনি ছিলেন দাম্মামের একজন ইমাম] 

সকল প্রশংসা আল্লাহ্‌র যিনি তার মহাগ্রন্থে বলেছেন “সেই ফিতনাকে ভয় করো যা শুধু তোমাদের মাঝে যারা অত্যাচারী তাদেরকেই স্পর্শ করবে না।” আমি সাক্ষ্য দেই যে আল্লাহ্‌ ব্যতীত প্রকৃত কোনো উপাস্য নেই – নেই তার কোনো সহযোগী। তিনি পরিত্রাণ পাওয়াকে নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন সেই ব্যক্তির জন্য যার মাঝে ৪টি আচরণ পরিলক্ষিত হবে। Continue reading

নবী রাসূলদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব

Prophethood[মূল লেখকঃ ‘আবদূর রাহমান বিন ‘আলী ইসমা’ঈল]

সকল প্রশংসা আল্লাহ্‌র এবং আল্লাহ্‌র রাসূলের প্রতি সালাত ও সালাম।

আল্লাহ তা’আলা স্বয়ং দয়ার প্রতিমূর্তিস্বরূপ প্রতিটি স্থান এবং কালে রাসূলদের প্রেরণ করেছেন। প্রত্যেক নবীই এক আল্লাহ্‌র প্রতি বিশ্বাসের দিকে আহ্বান করেছেন, তার সাথে কোনোরূপ সহযোগী সাব্যস্ত না করে। তারা মানুষকে দিকনির্দেশ করেছেন আল্লাহ্‌র ‘ইবাদাত ও আনুগত্যের প্রতি – কেননা আল্লাহ্‌ই হচ্ছেন সৃষ্টিকর্তা, অধিপতি ও পালনকর্তা এই সৃষ্টিকূলের। তিনিই সৃষ্টি করেছেন আকাশ, সূর্য, চাঁদ ও নক্ষত্রের – তিনিই অস্তিত্ব দিয়েছেন ধরিত্রীর এবং এতে যা কিছু রয়েছে যেমন পর্বত, সাগর ও নদী। আকাশ থেকে তিনিই প্রেরণ করেছেন বৃষ্টি এবং উৎপন্ন করেছেন ফলফলাদির, জন্ম ও মৃত্যুর দাতা তিনিই। Continue reading

অন্যের অধিকার হরণকারী পাপের তওবা প্রসঙ্গে

violationপূর্বের একটি লেখায় আমি তওবার ৫টি শর্ত নিয়ে লিখেছিলাম। সেখানে উল্লেখ করেছিলাম যে আল্লাহ্‌ ব্যতীত অন্য কারও হক নষ্টের যে পাপ তার তওবার বিষয়টি জটিল। এখানে শায়খ সালেহ ইবন আল-‘উসায়মীন রিয়াদুস-সালেহীনের ব্যাখ্যায় এই প্রসঙ্গে যা বলেছেন সেটা সরাসরি অনুবাদ করছিঃ 

আর যদি পাপকাজটি হয়ে থাকে তোমার আর অপর কোনো স্রৃষ্টির মাঝে সেক্ষেত্রে আগে দেখা দরকার সেই অন্যায়টি কী ধরণের। সেটা যদি অর্থ বা সম্পদ আত্মসাৎ করা হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই সেই অর্থ তার হকদারকে ফিরিয়ে দিতে হবে। এই হক ফিরিয়ে না দেয়া পর্যন্ত তওবা কবুল করা হবে না। উদাহরণস্বরুপ তুমি যদি কারও অর্থ চুরি করে থাকো এবং এখন তওবা করতে চাও, তাহলে অবশ্যই সেই ব্যক্তির কাছে তার অর্থ ফিরিয়ে দিতে হবে।  Continue reading

আল্লাহ্‌র জন্য না আল্লাহ্‌র দাসের জন্য?

randomশায়খ সালমান বিন ফাহ্‌দ আল-‘আওদাহ

আহমাদ ও ইবন খুযায়মার বর্ণনা থেকে পাওয়া যায় যে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ “তোমাদের যে ব্যাপারটিতে আমি সবচেয়ে বেশি ভয় পাই তা হচ্ছে ছোট শির্ক – রিয়া।” হাদীসটির ইসনাদকে আল-মুনযিরী ভালো সাব্যস্ত করেছেন “আত-তারগীবে।” ইবন মুফলিহ এটিকে সহীহ আখ্যা দিয়েছেন “আল-আদাব আশ-শার’ইয়াহ”তে। আর আল-আলবানী হাদীসটিকে সহীহ্‌র তালিকাতেই রেখেছেন।

মানুষের প্রশংসা পেয়ে আনন্দিত বোধ করার মাঝে কোনো সমস্যা নেই। রিয়া তখনই হয় যখন কাজের পেছনে মানুষের নিয়ত হয়ে থাকে মূলত আল্লাহ্‌ ব্যতীত অন্য কারও জন্য, যাতে করে এই কাজের পেছনে যদি অন্য কারও সমর্থন না থাকতো তবে সে সেটা করতোই না।

Continue reading

তওবার ৫টি শর্ত

repentance2তওবা করা বলতে আমরা সোজা বাংলায় যা বুঝি তা হলো মাফ চাওয়া। আরবিতে তওবা (التوبة) শব্দটি এসেছে তা-আলিফ-বা অক্ষর সংশ্লিষ্ট ধাতু থেকে যার আভিধানিক অর্থ হলো – ফিরে আসা, প্রত্যাবর্তন করা। ইসলামি পরিভাষায় তওবা বলতে বোঝায় আল্লাহ্‌র অবাধ্যতা থেকে আল্লাহ্‌র আনুগত্যের দিকে প্রত্যাবর্তন করা। তওবার গুরুত্ব ইসলামে অপরিসীম। অসংখ্য কুরআনের আয়াত ও হাদীসে  এর গুরুত্ব সম্বন্ধে আমরা আঁচ করতে পারি। Continue reading